সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১২ অপরাহ্ন

দোহারে ব্র্যান্ডের মোড়কে নকল পণ্যের কারখানা, জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে

নামি-দামি ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন।

নিজস্ব প্রতিবেদক:: ঢাকার দোহারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নামি-দামি ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদনের মহোৎসব চলছে। উপজেলার গাজিরটেক এলাকায় নজরুল ইসলাম শেখ নামে এক ব্যক্তি কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই গড়ে তুলেছেন এই অবৈধ কারখানা। দীর্ঘদিন ধরে বিএসটিআই-এর লোগো জাল করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এখানে তৈরি হচ্ছে শিশু খাদ্যসহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।

রোববার (১২ এপ্রিল) সরেজমিনে গাজিরটেক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত নোংরা ও ঘিঞ্জি পরিবেশে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী। দেশের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর মোড়ক হুবহু নকল করে এসব পণ্য প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। যা দেখে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল-নকল চেনা প্রায় অসম্ভব। কারখানায় বিএসটিআই-এর কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও প্রতিটি পণ্যের গায়ে ভুয়া লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। কারখানায় ৬/৭ জন কর্মচারী কাজ করছে। তারাও জানে না এটা আসল না নকল।

এলাকার রাফাত হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরেই এখানে নকল পণ্য তৈরী হচ্ছে- কিন্তু প্রশাসনের কোনো তদারিক নেই। চকবাজার থেকে সেভেন আপ, স্পিড ও বিভিন্ন জুসের প্যাকেট এনে মোড়ক হিসেবে ব্যবহার করে বাজারজাত করছে এসব নকল পণ্য।

নামি-দামি ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন।

গাজিরটেকের জুলহাস উদ্দিন বলেন, এসব পণ্য শিশুদের বিষাক্ত খাবার হিসেবে তৈরী হচ্ছে। যা শিশুসহ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। দ্রুত এসব বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই বিষাক্ত পণ্যের উৎপাদন চলছে। এসব নিম্নমানের ও ভেজাল শিশুখাদ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়ার কারণে স্থানীয় শিশুসহ সব বয়সী মানুষের স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই অবৈধ কারখানা সিলগালা করে মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে কারখানার মালিক নজরুল ইসলাম শেখের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার অপরাধের কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নেন। কোনো অভিজ্ঞতা বা কারিগরি জ্ঞান ছাড়াই উৎপাদন কাজ শুরু করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “অভিজ্ঞতা ছাড়াই আমি এই কাজ শুরু করেছি।” তবে কেন অনুমোদনহীন কেমিক্যাল ও ভুয়া লোগো ব্যবহার করছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে খুব শীঘ্রই আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। ‍শিশু ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অনুমোদনহীন কোনো খাবার বাজারজাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থানে আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com